রাত ১:১২ | সোমবার | ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অঢেল সম্পত্তির মালিক হাজী মুহাম্মদ মহসিন দুহাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন হাজী মুহাম্মদ মহসিন। দানশীলতার কারণে হাজী মহসিন কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছেন। উপমহাদেশের ইতিহাসের এ বিখ্যাত দানবীর মুহাম্মদ মহসিন ১৭৩২ সালের ৩ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন। দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে মানুষ সর্বদা তার দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে থাকে। এই সর্বশ্রেষ্ঠ দানবীর পুরো বাঙালি জাতি হিন্দু, মুসলিম সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র।
অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন হাজী মহসিন। এসব সম্পদ তিনি দুহাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন। মহসিনের পূর্ব পুরুষরা অত্যন্ত ধনী ছিলেন। ইরান থেকে বাংলায় আসা তার বাবা হাজী ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ধনী জায়গিরদার। মাতা জয়নব খানমেরও হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় বিস্তর জমি ছিল। তার বোন মন্নুজানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে মহসিন বোনের সম্পত্তির মালিক হন।
এতো সম্পদের মালিক হয়েও মহসিন ছিলেন খুব ধার্মিক ও নিরহঙ্কারী। তিনি সর্বদা সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি ছিলেন চিরকুমার। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ইমাম বাড়া প্রাসাদে বাস করতেন না। ইমাম বাড়ির পাশে একটি ছোট কুটিরে বাস করতেন। আর কুরআন শরীফ নকল করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতেন। নিজ হাতে রান্না করে অধীনস্তদের নিয়ে বসে খেতেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে হাজী মহসিন গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্জন করেছেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ যান। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দেশ ভ্রমণে বের হন। তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালাসহ ইরান, ইরাক, আরব, তুরস্ক এমন নানা স্থান সফর করে দীর্ঘ ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন। হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়। তার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।
১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন।
এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়। ১৮১২ সালে এ ধার্মিক দানবীর হুগলিতে ইন্তেকাল করেন। তাকে হুগলির ইমামবাড়ায় দাফন করা হয়। ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের নাম তার স্মরণে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটির নাম বিএনএস হাজী মহসিন। এছাড়াও চট্টগ্রামে বিখ্যাত হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আবুল ফজল রাজু

» বর্তমান সরকার সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে পর্যাপ্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে- পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী

» শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন- মেম্বার মোরশেদ আলম।

» শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আনছর আলীর উপহার সামগ্রী বিতরণ।

» পুনরায় পাপ্পা গাজী ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন শরাফত আলী।

» পুনরায় পাপ্পা গাজী ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন দীন মোহাম্মদ দীলু।

» পাপ্পা গাজী ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হওয়ায় আবুল ফজল রাজুর অভিনন্দন

» হাসিনা গাজীর জন্মদিনে দীন মোহাম্মদ দীলুর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

» বিনা স্বার্থে যে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলে সে ব্যক্তিত্বহীন – লিখন রাজ

» রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও দুই পা ভেঙ্গে ১০ লাখ টাকা লুট

» পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উযযাপন আনছর আলীর।

» রাজধানীর খিলক্ষেতে ‘মোহাম্মদী ডেইরী এন্ড সুইটস্’ শো-রুমের তৃতীয় শাখা শুভ উদ্বোধন

» প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন দীন মোহাম্মদ দীলু

» রূপগঞ্জে দোয়া ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মেসার্স মক্কা ট্রেডার্স এর শুভ উদ্বোধন

» রূপগঞ্জের পূর্বাচলে শীঘ্রই শুভ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে মেসার্স মক্কা ট্রেডার্স

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট

,

অঢেল সম্পত্তির মালিক হাজী মুহাম্মদ মহসিন দুহাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন হাজী মুহাম্মদ মহসিন। দানশীলতার কারণে হাজী মহসিন কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছেন। উপমহাদেশের ইতিহাসের এ বিখ্যাত দানবীর মুহাম্মদ মহসিন ১৭৩২ সালের ৩ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন। দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে মানুষ সর্বদা তার দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে থাকে। এই সর্বশ্রেষ্ঠ দানবীর পুরো বাঙালি জাতি হিন্দু, মুসলিম সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র।
অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন হাজী মহসিন। এসব সম্পদ তিনি দুহাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন। মহসিনের পূর্ব পুরুষরা অত্যন্ত ধনী ছিলেন। ইরান থেকে বাংলায় আসা তার বাবা হাজী ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ধনী জায়গিরদার। মাতা জয়নব খানমেরও হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় বিস্তর জমি ছিল। তার বোন মন্নুজানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে মহসিন বোনের সম্পত্তির মালিক হন।
এতো সম্পদের মালিক হয়েও মহসিন ছিলেন খুব ধার্মিক ও নিরহঙ্কারী। তিনি সর্বদা সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি ছিলেন চিরকুমার। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ইমাম বাড়া প্রাসাদে বাস করতেন না। ইমাম বাড়ির পাশে একটি ছোট কুটিরে বাস করতেন। আর কুরআন শরীফ নকল করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতেন। নিজ হাতে রান্না করে অধীনস্তদের নিয়ে বসে খেতেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে হাজী মহসিন গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্জন করেছেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ যান। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দেশ ভ্রমণে বের হন। তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালাসহ ইরান, ইরাক, আরব, তুরস্ক এমন নানা স্থান সফর করে দীর্ঘ ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন। হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়। তার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।
১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন।
এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়। ১৮১২ সালে এ ধার্মিক দানবীর হুগলিতে ইন্তেকাল করেন। তাকে হুগলির ইমামবাড়ায় দাফন করা হয়। ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের নাম তার স্মরণে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটির নাম বিএনএস হাজী মহসিন। এছাড়াও চট্টগ্রামে বিখ্যাত হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ রয়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট