রাত ২:০৭ | সোমবার | ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আরিচায় যমুনার পানি বাড়ছে, ভাসছে নতুন এলাকা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচাঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে বুধবার সকালে এই পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এর ফলে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিসহ নতুন নতুন এলাকা। রাস্তা-ঘাট ভেঙে ও ডুবে গিয়ে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অভাব দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির।

শিবালয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (জিআর) মো. ফারুক হোসেন জানান, গত কয়েকদিন যমুনা নদীর এই পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার সকাল নয়টা পর্যন্ত পানি বিপদসীমার (৯.৪০ মিটার) এক সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর এই পয়েন্টে পানি স্তর পরিমাপ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নদী তীরবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গত কয়েকদিন যমুনায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইছামতি, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরীতেও পানি বাড়ছে। এতে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী, বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর ও খলসী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বাসাইল, মুন্সিকান্দি, জোতকাশি, বেপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, রাহাতপুর, চুয়াডাঙ্গা, হাজিপাড়া, কাচারীপাড়া, উত্তরখন্ড, অহেল আলীর পাড়া, গোবিন্দপুর, নকেরআলী মাদবরপাড়া, বাঘপাড়া, মন্ডলপাড়া, বড়টিয়া, আমতলী, কাটাখালি ও বৈন্যা এলাকায় কম-বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শাখা নদী তীরবর্তী শ্রীধরনগর, কুস্তা, ঘিওর, মাইলাগি, জাবরা, তরা, বেউথা, নয়াকান্দিসহ প্রভৃতি নতুন নতুন এলাকাও পড়েছে ভাঙনের মুখে। অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহে পানি ঢুকে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর ইতোমধ্যেই ডুবে গেছে। ফসলের ক্ষেতও প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সাহায্যে আসেনি বলেও জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলিমুজ্জামান মিয়া জানান, পানিতে বোরো-আমন ধান, রোপার বীজতলা ও শাকসবজি’র জমি ডুবে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হচ্ছে। এক সপ্তাহের বেশি এসব ফসল পানিতে ডুবে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ৩১১ নম্বর রুমে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ০২৭৭১১৫৯০ এবং মোবাইল নম্বর ০১৭১৩৫০২৮১৫ ও ০১৮৪১৫০০০১৫।

জেলা প্রশাসক মো. নাজমুছ সাদাত সেলিম বন্যা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য উপরোক্ত টেলিফোন ও মোবাইল নম্বরে আদান প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ খবর



» শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আবুল ফজল রাজু

» বর্তমান সরকার সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে পর্যাপ্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে- পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী

» শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন- মেম্বার মোরশেদ আলম।

» শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আনছর আলীর উপহার সামগ্রী বিতরণ।

» পুনরায় পাপ্পা গাজী ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন শরাফত আলী।

» পুনরায় পাপ্পা গাজী ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন দীন মোহাম্মদ দীলু।

» পাপ্পা গাজী ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হওয়ায় আবুল ফজল রাজুর অভিনন্দন

» হাসিনা গাজীর জন্মদিনে দীন মোহাম্মদ দীলুর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

» বিনা স্বার্থে যে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলে সে ব্যক্তিত্বহীন – লিখন রাজ

» রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও দুই পা ভেঙ্গে ১০ লাখ টাকা লুট

» পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উযযাপন আনছর আলীর।

» রাজধানীর খিলক্ষেতে ‘মোহাম্মদী ডেইরী এন্ড সুইটস্’ শো-রুমের তৃতীয় শাখা শুভ উদ্বোধন

» প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন দীন মোহাম্মদ দীলু

» রূপগঞ্জে দোয়া ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মেসার্স মক্কা ট্রেডার্স এর শুভ উদ্বোধন

» রূপগঞ্জের পূর্বাচলে শীঘ্রই শুভ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে মেসার্স মক্কা ট্রেডার্স

যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট

,

আরিচায় যমুনার পানি বাড়ছে, ভাসছে নতুন এলাকা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচাঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে বুধবার সকালে এই পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এর ফলে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিসহ নতুন নতুন এলাকা। রাস্তা-ঘাট ভেঙে ও ডুবে গিয়ে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অভাব দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির।

শিবালয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার (জিআর) মো. ফারুক হোসেন জানান, গত কয়েকদিন যমুনা নদীর এই পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। মঙ্গলবার সকাল নয়টা পর্যন্ত পানি বিপদসীমার (৯.৪০ মিটার) এক সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর এই পয়েন্টে পানি স্তর পরিমাপ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নদী তীরবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গত কয়েকদিন যমুনায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইছামতি, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরীতেও পানি বাড়ছে। এতে দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী, বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, জিয়নপুর ও খলসী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বাসাইল, মুন্সিকান্দি, জোতকাশি, বেপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, রাহাতপুর, চুয়াডাঙ্গা, হাজিপাড়া, কাচারীপাড়া, উত্তরখন্ড, অহেল আলীর পাড়া, গোবিন্দপুর, নকেরআলী মাদবরপাড়া, বাঘপাড়া, মন্ডলপাড়া, বড়টিয়া, আমতলী, কাটাখালি ও বৈন্যা এলাকায় কম-বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শাখা নদী তীরবর্তী শ্রীধরনগর, কুস্তা, ঘিওর, মাইলাগি, জাবরা, তরা, বেউথা, নয়াকান্দিসহ প্রভৃতি নতুন নতুন এলাকাও পড়েছে ভাঙনের মুখে। অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙে নদী তীরবর্তী এলাকাসমূহে পানি ঢুকে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর ইতোমধ্যেই ডুবে গেছে। ফসলের ক্ষেতও প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সাহায্যে আসেনি বলেও জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলিমুজ্জামান মিয়া জানান, পানিতে বোরো-আমন ধান, রোপার বীজতলা ও শাকসবজি’র জমি ডুবে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হচ্ছে। এক সপ্তাহের বেশি এসব ফসল পানিতে ডুবে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ৩১১ নম্বর রুমে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ০২৭৭১১৫৯০ এবং মোবাইল নম্বর ০১৭১৩৫০২৮১৫ ও ০১৮৪১৫০০০১৫।

জেলা প্রশাসক মো. নাজমুছ সাদাত সেলিম বন্যা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য উপরোক্ত টেলিফোন ও মোবাইল নম্বরে আদান প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেছেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।

সর্বশেষ খবর



এ বিভাগের অন্যান্য খবর



যোগাযোগ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় –

বাসা#৪৯, রোড#০৮, তুরাগ, ঢাকা।
বার্তা কক্ষ : 01781804141
ইমেইল : timesofbengali@gmail.com

 

© এ.আর খান মিডিয়া ভিশন এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

      সর্বস্বত্ব স্বাত্বাধিকার টাইমস্ অফ বেঙ্গলী .কম

কারিগরি সহযোগিতায় এ.আর খান হোস্ট